জানাযার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত এবং ফজিলত
জানাযার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত এবং ফজিলত সম্পর্কে জানতে অনেকেই google এ সার্চ করে থাকেন। আমাদের আজকের আর্টিকেল আপনাদেরকে জানাবো। জানাযার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত এবং ফজিলত।
মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকে না। সবাইকে একদিন ওপারে যেতে হবে। আজ জন্ম নেওয়া শিশুটিকে একদিন এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। আজকের পৃথিবী মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা।
জানাযা হল একজন মৃত মুসলমানকে দাফন করার আগে একটি বিশেষ প্রার্থনা। একে সাধারণত জানাজা নামাজ বলা হয়। তাই জানাযার নামাজের নিয়ম জেনে রাখ আমাদের সকলের জন্য জরুরী মুসলমানদের জন্য, অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য, এটি একটি ফারদু কেফায়া বা সম্প্রদায়ের জন্য বাধ্যতামূলক বাধ্যবাধকতা, অর্থাৎ, যদি কোন মুসলমান মারা যায়, তাহলে মুসলিম সম্প্রদায়কে অবশ্যই জানাজা আদায় করতে হবে। তবে কোনো এলাকা বা গোত্র থেকে কেউ সংগ্রহ করলে সবার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুসলিম মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযে চল্লিশজন লোক যারা আল্লাহর সাথে কখনো কাউকে শরীক করে নি তারা নামায পড়ে, তাহলে আল্লাহ মৃত ব্যক্তির জন্য তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।” (মুসলিম)
মৃতদেহের জন্য, লাশ কিবলার দিকে রাখতে হবে। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে ইমাম মাথার পাশে দাঁড়াবে। আর যদি সে একজন নারী হয়, তাকে অবশ্যই মাঝখানে দাঁড়াতে হবে, এটাই নবী মুহাম্মদ সা.-এর সুন্নত।
জানাযা নামাজের নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُؤَدِّىَ لِلَّهِ تَعَا لَى اَرْبَعَ تَكْبِيْرَاتِ صَلَوةِ الْجَنَا زَةِ فَرْضَ الْكِفَايَةِ وَالثَّنَا ءُ لِلَّهِ تَعَا لَى وَالصَّلَوةُ عَلَى النَّبِىِّ وَالدُّعَا ءُلِهَذَا الْمَيِّتِ اِقْتِدَتُ بِهَذَا الاِْمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
বাংলা উচ্চারণ: “নাওয়াইতু আন উয়াদ্দিয়া লিল্লাহে তায়ালা আরবা আ তাকবীরাতে ছালাতিল জানাজাতে ফারজুল কেফায়াতে আচ্ছানাউ লিল্লাহি তায়ালা ওয়াচ্ছালাতু আলান্নাবীয়্যে ওয়াদ্দোয়াউ লেহাযাল মাইয়্যেতে এক্কতেদায়িতু বিহাযাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতে আললাহু আকবার।”
আরবিতে না পারলে বাংলা পড়তে পারবেন কোন সমস্যা নেই
বাংলায়:আমি জানাজার ফরজে কেফায়া নামাজ চার তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে আদায়ের নিয়ত করছি।’
এরপর কান পর্যন্ত হাত ওঠাবে এবং তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবর) বলতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে।
সানা
সানা আরবিতে:
سُبْحَا نَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَا لَى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلاَ اِلَهَ غَيْرُكَ
বাংলা উচ্চারণ: ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া জাল্লা ছানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনার। আপনি সব ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি হতে পবিত্র। আপনার নাম মঙ্গল ও বরকতপূর্ণ, আপনার মহত্ত্ব অতি বিরাট, আপনার প্রশংসা অতি মহত্ত্বপূর্ণ এবং একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই।
সানা পড়ে তারপর দ্বিতীয় তাকবীর এই তাকবীরে হাত উঠানো যাবে না। এবং অতঃপর দরুদ শরীফ পড়তে হবে।
দরুদ শরীফ:
للَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَ اهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ- اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى اَلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى اِبْرَا هِيْمَ وَعَلَى اَلِ اِبْرَا هِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌمَّجِيْدٌ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা–আ-লি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউঁ ওয়া আলা-আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা–আ-লি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করো, যেভাবে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করো, যেভাবে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর বরকত দান করেছিলে। নিশ্চয়ই তুমি অতি প্রশংসিত মহিমান্বিত।’ (নাসাঈ ১২৯১)
দরুদ শরীফ পড়ার পর তৃতীয় তাকবীর আদায় করে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবেন।
জানাজার নামাজের দোয়া:
যদি মৃত ব্যক্তি পুরুষ বা নারী হয়।
আরবিতে:
لَّهُمَّ اغْفِرْلحَيِّنَاوَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَا نَا اَللَّهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلَى الاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الاْيمَانِ بِرَحْمَتِكَ يَا ارْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফির লি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়েবিনা ওয়া সগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উনছানা, আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ইমান। আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু ওয়া আলা তুদিল্লানা বা-দাহু।’
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত এবং মৃতদের, উপস্থিত এবং গায়েবদের, ছোট ও বড়দের এবং আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন, তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন, তাকে ইমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! এর সওয়াব থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করবেন না এবং এরপর আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না। (আবু দাউদ ৩২০১, তিরমিজি ১০২৪)
লাশ যদি ছেলেশিশুর হয়, তবে এই দোয়া পড়তে হবে:
আরবিতে:
اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وْاَجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًا
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাজ আল হুলানা ফারতাও ওয়াজ আল হুলানা আজরাও ওয়া যুখরাঁও ওয়াজ আলহুলানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ্ফায়ান।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ, তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
লাশ যদি মেয়েশিশুর হয়, তবে এই দোয়া পড়তে হবে:
আরবিতে:
اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرْطًا وَاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًاوَاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَمُشَفَّعَة
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাজ আলহা লানা ফারতাও ওয়াজ আলহা লানা আজরাও ওয়া যুখরাও ওয়াজ আলহা লানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফ ফায়ান।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও, যা তোমার দরবারে কবুল হয়।
এরপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে একটু নীরব থেকে ডানে এবং বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
কেউ নামায পড়তে দেরী করলে ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করতে হবে। সম্ভব হলে চার তাকবির পড়তে হবে, সম্ভব না হলে ইমাম সাহাবের অনুসরণ করে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামায শেষ করতে হবে। জানাযার নামায অবশ্যই জামাতে আদায় করতে হবে, তাই কাজা পড়া জায়েয নয়।
জানাজার নামাজের ফজিলত:
মৃতের জন্য মাগফিরাত: জানাজার নামাজের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মাগফিরাত প্রার্থনা করা হয়।
গোনাহ মাফ: হাদিসে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাজার সাথে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে, তার জন্য এক কিরাত সওয়াব লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি দাফন পর্যন্ত থাকে তার জন্য দুই কিরাত সওয়াব লেখা হয়।
দুঃখ-কষ্ট লাঘব: জানাজার নামাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিবারের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করা হয়।
সওয়াব: জানাজার নামাজে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রচুর সওয়াব রয়েছে।
আল্লাহর রহমত: জানাজার নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।
ঈমানের নবায়ন: জানাজার নামাজ মৃত্যু ও পরকাল সম্পর্কে সচেতন করে এবং ঈমানের নবায়ন ঘটায়।
জানাজার নামাজের ফজিলত সম্পর্কে কিছু হাদিস:
হাদিস: রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের জানাজার নামাজ পড়বে, তার জন্য এক কিরাত সওয়াব লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি দাফন পর্যন্ত থাকবে তার জন্য দুই কিরাত সওয়াব লেখা হবে।” (সহীহ বোখারী)
হাদিস: রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা যখন
জানাজার নামাজ আদায় করবে, তখন মৃতের জন্য খালেস অন্তরে দোয়া করবে।” (মুসলিম)
আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেলটি পরে আপনি পুরোপুরিভাবে জানতে পেরেছেন। জানাযার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত এবং ফজিলত। আরো এমন আর্টিকেল পেতে এবং পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন
