ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ; মূল্যায়ন পদ্ধতি কি ও কেনো?

ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি

ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি কি ও কেনো এটা সম্পর্কে জানতে অনেকেই গুগলে এ সার্চ করে থাকেন। আমাদের আজকের আর্টিকেলে আপনার এ ব্যাপারে পরি এক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি


ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হল ছাত্র-ছাত্রীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের অগ্রগতি নিয়মিত গতিবিধি ও মূল্যায়ন করার একটি ব্যবস্থা। এটি শুধু চূড়ান্ত পরীক্ষার উপর নির্ভর করে না, বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, এবং মনোভাব সম্পর্কে ধারণা পেতে বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে।


ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি: 


ধারাবাহিক মূল্যায়ন কি এবং কেনো

ধারাবাহিক মূল্যায়ন শিক্ষণ এবং শেখানো কার্যক্রমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধারাবাহিক মূল্যায়ন হল বিভিন্ন পদ্ধতি এবং কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ার শুরুতে, সময়কালে এবং শেষে মূল্যায়ন করার প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ মূল্যায়ন করা হয়। শেখার মূল্যায়নকে শেখার মূল্যায়নও বলা হয়, কারণ শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয় শেখার মূল্যায়ন করে দুর্বলতা চিহ্নিত করে এবং প্রয়োজনীয় পুনঃমূল্যায়ন করে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন নয়। তাই এই মূল্যায়নের জন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে সহায়তা করা। শিক্ষণ এবং শেখার কার্যক্রমের সময় প্রয়োজনীয় ফলাফলের মাধ্যমে এই শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে একটি স্বাভাবিক এবং মনোরম পরিবেশে ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করবেন।



ধারাবাহিক মূল্যায়নের উদ্দেশ্য:


•শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিক্রিয়া প্রদান করা।

•শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়ায় ভুলগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো সংশোধন করার জন্য সাহায্য করা।

•শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়ায় তাদের ইচ্ছা,আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।

•শিক্ষার্থীদের শেখানো প্রক্রিয়ায় তাদের শেখা কতটা কার্যকর তা নির্ধারণ করা।


ধারাবাহিক মূল্যায়নের পদ্ধতিগুলো:


পর্যবেক্ষণ: শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে থাকেন এবং তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, এবং মনোভাব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।


মৌখিক পরীক্ষা: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মৌখিকভাবে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন এবং তাদের উত্তরের ভিত্তিতে তাদের জ্ঞান ও বোঝার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন।


শ্রেণিকাজ: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে বিভিন্ন ধরণের কাজ করার সুযোগ করে দেন এবং তাদের কাজের মান বিবেচনা করেন।


বাড়ির কাজ: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাড়িতে করার জন্য কাজ দিয়ে থাকেন এবং তাদের কাজের মান পর্যবেক্ষণ করেন।


কুইজ: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কুইজ পরীক্ষা নেন এবং তাদের জ্ঞান ও বোঝার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পান।


চেকলিস্ট: শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য চেকলিস্ট ব্যবহার করে থাকেন।


ধারাবাহিক মূল্যায়নের সুবিধা:


•শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিনিয়ত প্রতিক্রিয়া প্রদান করে তাদের শেখা এবং শেখানো প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।

•শিক্ষার্থীদের শেখা ও শেখানো প্রক্রিয়ায় ভুলগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো ঠিক করার জন্য সহায়তা করে।

•শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়ায় তাদের ইচ্ছা আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে।

•শিক্ষার্থীদের শেখা-শেখানো প্রক্রিয়ায় তাদের শেখা কতটা কার্যকর তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।