বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য : বিদায় অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেওয়া ও একটি শিল্প রূপ। স্কুল জীবন থেকে কর্মজীবন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদায়ী ভাষণ কিভাবে দিতে হয় তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে হবে। আপনি যদি সুন্দরভাবে একটি বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দিতে পারেন তাহলে আপনি আপনার বিদায় বেলায়ও সকলের মন জয় করতে পারবেন। তবে আমরা অনেকেই ভেবে পাইনা কোন জায়গা থেকে শুরু করবো এবং বিদায়ী বক্তব্যে ঠিক কি কি বলবো। তাই আমাদের আজকের এই পোস্টে আপনাদেরকে দেখাবো বিদায়ী ভাষণ কিভাবে দিতে হয়। বিদায়ী ভাষণ বা বক্তব্য আমাদের সকলেরই জেনে রাখা জরুরী। কারণ এটি আমাদের স্কুল জীবন, কলেজ জীবন এমন কি চাকরি জীবন শেষেও দিতে হয়। সুন্দরভাবে বক্তব্য দেওয়া ও একটি আর্ট। যার মাধ্যমে আপনি আপনার শ্রোতাদের মন জয় করতে পারবেন। তাই চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে একটি সুন্দর বিদায়ী অনুষ্ঠানের বক্তব্য দিতে হয়।

বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য

বক্তব্য সুন্দর করে আমরা সবাই দিতে চাই আমরা সবাই চাই যে আমাদের বক্তব্য শুনে শ্রোতারা খুশি হোক এবং আমরা যেন তাদের মন জয় করতে পারি। তবে এর জন্য আমাদের জানতে হবে কিভাবে সুন্দর ভাবে একটি বিদায়ী বক্তব্য দিয়ে শ্রোতাদের মন জয় করবো নিজের বিদায় সময়ে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে নিচে ২ টি নমুনা দেওয়া হলো। যার মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন কিভাবে সুন্দর করে একটি বিদায়ী বক্তব্য দিতে হয়। নিজের মতো করে নিচের দেওয়া বক্তব্যটি পরিবর্তন করে উপস্থাপন করতে পারেন।

আরো পড়ুন: কিভাবে বক্তব্য শুরু করবো ?

 

নমুনা ১)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

এখানে উপস্থিত সকল অতিথি সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আমার পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সালাম আসসালামু আলাইকুম

 

আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে পড়ে আসছি। আমরা কখনোই ভুলবো না যে এই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক যেভাবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমাদের বিভিন্ন বিষয় পড়াতেন। এজন্য আমরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমরা না চাইলেও আজ আমাদের এই প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে। আজ, আমরা আমাদের শিক্ষাগত জীবনের একটি অধ্যায় শেষ করে পরের দিকে পা রাখতে যাচ্ছি।

দোয়া করবেন যেন আমরা আমাদের শিক্ষার উন্নতি করতে পারি এবং ভবিষ্যতে আমাদের দেশ ও জাতি গঠনে অবদান রাখতে পারি। তাছাড়া এখানে আমাদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে আমাদের অনেক শাসন-বারন অতিক্রম করতে হয়েছে যা এক সময় বিরক্তিকর মনে হলেও এখন শেষ মুহুর্তে আমরা বুঝতে পারছি এটা আমাদের জন্য কতটা উপকারী ছিল। তাই আমাদের কোনো কাজে কর্মে যদি কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা কষ্ট পেয়ে থাকেন, বা আমাদের কোনো ছোট বা বড় কোনো ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের ক্ষমা করবেন। আমাদের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

 

যাই হোক, বিদায়ের মুহূর্তে আমি আর বেশি কিছু বলতে চাই না, তবে এই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। – ধন্যবাদ সবাইকে.

 

আরো পড়ুন: মোটিভেশনাল বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম

 

নমুনা ২

 

প্রিয় সহকর্মী/বন্ধু/ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ,

 

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা, এবং সালাম আসসালামু আলাইকুম। আজ আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। হয়তো আজকের পর আমাদের আর এখন এর মতো দেখা হবে না কথা হবে না। কিন্তু আপনারা আমার মনে যেভাবে আছেন সব সময় সেভাবেই থেকে যাবেন।

 

আমি গত ৯ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে আপনার সাথে কাজ করেছি। আমি আপনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি যা আমি অন্য কোথাও এভাবে আয়ত্ত করতে পারতাম না। বছরের পর বছর ধরে, আপনারা আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে একজন ভালো বন্ধু, সহকর্মী এবং ছাত্র হতে হয়।

 

আমি আপনার কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে প্রতিকূলতার মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় এবং কীভাবে ব্যর্থতা পাশ কাটিয়ে সফল হতে হয়। এই শিক্ষা আমার বাকি জীবনেও কাজে লাগবে।

 

আপনারা আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো নাগরিক এবং একজন আদর্শ শিক্ষক/ছাত্র হতে হয়। আমি আপনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি. এর জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ।

 

আজ  আমি এখানে বিদায়ী বক্তব্য দিতে এসেছি, তবে আমি আপনাদের চিরতরে বিদায় জানাতে চাই না। আপনারা চিরকাল আমার হৃদয়ে থাকবেন। গত 9 বছরে আপনারা আমাকে যা শিখিয়েছেন তা আমি সর্বদা মনে রাখব। আপনাদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো কে মনে রাখবো।

 

 

সবশেষে বলতে চাই দীর্ঘ নয় বছরের চাকরি জীবনে। যদি আপনাদের সাথে কোনো ভুল করে থাকি আমি সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। এবং আমি চাই আপনারাও আমাকে মনে রাখেন

এই বলে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।

 

ধন্যবাদ সবাইকে।

 

আরো পড়ুন: বসের বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য