দরখাস্ত লেখার নিয়ম | আবেদন বা দরখাস্ত লেখার সঠিক নিয়ম দেখে নিন

আবেদন লেখার নিয়ম

দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। আমাদের সকলের জেনে রাখা জরুরী কিভাবে দরখাস্ত লিখতে হয়। তাই আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পূর্ণ সঠিকভাবে। দরখাস্ত লেখার কিছু নিয়ম রয়েছে যেগুলো মেনে সব সময় দরখাস্ত লিখতে হয় অন্যথায় দরখাস্ত টি আকর্ষণীয় হয় না। যার ফলে যার উদ্দেশ্যে দরখাস্ত টি লিখেছেন তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন না তাই অবশ্যই আমাদের সকলের জেনে রাখা জরুরি দরখাস্ত লেখার নিয়ম সম্পর্কে।

 

দরখাস্ত লেখার নিয়ম 

আবেদন বা দরখাস্ত ছাত্র জীবন থেকে চাকরি জীবন সব ক্ষেত্রেই এটার বেশ গুরুত্ব রয়েছে আমাদের সকলেরই জেনে রাখা জরুরি কিভাবে সঠিক নিয়মে শুদ্ধভাবে আবেদন বা দরখাস্ত লিখতে হয়। স্কুল জীবনের স্কুল অনুপস্থিতির আবেদন। স্কুল ছুটির দরখাস্ত থেকে শুরু করে বেতন মওকুফের দরখাস্ত। একই সাথে এটার গুরুত্ব রয়েছে চাকরি জীবনেও। বেতন বাড়ানোর জন্য আবেদন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার দরখাস্ত। আরো কত কি এর গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। সুন্দর দরখাস্ত লিখতে পারলে কর্তৃপক্ষ আপনাকে বেশ গুরুত্ব দিবে। দরখাস্ত বা আবেদন লেখার ক্ষেত্রে আমরা অনেকে কিছু ভুল করে থাকি। যা আমাদের করা একদম উচিত নয়। দরখাস্ততে করা যাবে না এরকম চারটি ভুল নিচে দেওয়া হলো

 

দরখাস্ত লেখায় যেসব ভুল করা যাবে না 

 

প্রথমত: দরখাস্ত তে একদম সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করা উচিত। কোনভাবেই দরখাস্ত বা আবেদনে ভুল তথ্য সংযুক্ত করা উচিত নয়

 

দ্বিতীয়ত: স্পষ্ট এবং সাবলীল ভাষা দরখাস্ততে ব্যবহার করতে হবে। এবং একই সাথে সবকিছু সহজ এবং সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখতে হবে। যাতে করে এটিকে পড়তে কোনরকম অসুবিধা না হয়। তাই ভাষার দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।

 

তৃতীয়ত: আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় আপনার আবেদন বাতিল করা হতে পারে।

 

চতুর্থত: ভুলক্রুটি এরাতে দরখাস্ত জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার নিজে কয়েকবার পুরো দরখাস্ত পড়ে নেওয়া উচিত। যাতে কোন কিছু ভুল হলে আপনার কাছেই ধরা পড়ে।

 

প্রিয় পাঠক দরখাস্ত লিখতে হলে উপরের চারটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং উল্লেখিত ভুল এড়িয়ে চলতে হবে।

 

দরখাস্ত গুছিয়ে লেখার নিয়ম

 

১) প্রথমে সবার উপরে আবেদনের তারিখ উল্লেখ করবেন। যেমন ” (তারিখ: ২০,০৯,২০২*)

 

২) তারপর বরাবর লিখে তাকে উল্লেখ করবেন যার উদ্দেশ্যে আপনি এ আবেদন বা দরখাস্ত লিখছেন। উদাহরণস্বরূপ মাননীয় প্রধান শিক্ষক বা মাননীয় চেয়ারম্যান (বামপাশে)

 

৩) যার উদ্দেশ্যে দরখাস্ত লিখছেন তাকে উল্লেখ করার পর তার ঠিক নিচেই স্কুল কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করবেন।

 

৪) অতঃপর সে স্কুল বা সে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা স্পষ্ট ভাবে লিখবেন।

 

৫) তারপর আপনার আবেদনের বিষয়টি লিখবেন।

উদাহরণস্বরূপ: বিষয়: স্কুল ছুটির দরখাস্ত

 

৬) তারপর দরখাস্তের কারণ লেখার আগে।

জনাব/জনাবা বা মহাশয়/মহাশয়া, বলে শুরু করবেন।

 

৭) তারপর শুরুতে আপনার পরিচয় ভালোভাবে সাবলীল ভাষায় দিবেন অতঃপর এই আবেদন বা দরখাস্তের কারণ স্পষ্ট এবং সহজভাবে উল্লেখ করবেন। সম্ভব হলে এখানে প্রমাণসহ তুলে ধরবেন।

 

৮) এবং শেষ অংশে আপনার কারণ বিবেচনা করে। আপনার এই দরখাস্ত বা আবেদন। গ্রহণ করবে বলে আপনি আশাবাদী বলে উল্লেখ করবেন। এবং শেষে ধন্যবাদ দিবেন

 

৯) তারপর প্রথমে আপনার নাম তার নিচে আপনার স্বাক্ষর

 

আবেদন বা দরখাস্ত লেখার সাধারণ একটি নমুনা

 

তারিখ: ২০,১০,২০২*

 

বরাবর

 

(যার উদ্দেশ্যে লিখছেন যেমন: মাননীয় প্রধান শিক্ষক, মাননীয় চেয়ারম্যান,)

(প্রতিষ্ঠান বা অফিসের ঠিকানা)

 

বিষয়: (দরখাস্তের বিষয়টি লিখুন)

 

জনাব/জনাবা, (পুরুষ হলে জনাব)

(*******এবার এখানে আপনার এই দরখাস্তের উদ্দেশ্য এবং দরখাস্ত নিয়ে সকল কিছু বিস্তারিত ভেঙ্গে সুস্পষ্ট ভাবে লিখবেন। এবং আপনার দরখাস্ত মঞ্জুর করার জন্য বিনীত অনুরোধ করবেন*******)

 

ধন্যবাদান্তে

 

(আপনার নাম লিখবেন)

(আপনার পদ বা পরিচয় লিখবেন)

(আপনার ব্যাপারে আরো তথ্য বা আপনার মোবাইল নাম্বার লিখতে পারেন)

 

 

প্রিয় পাঠক এটাই ছিল আমাদের আজকের দরখাস্ত লেখার নিয়ম দরখাস্ত লেখার নিয়ম নিয়ে আর্টিকেল আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনি আবেদন লেখার নিয়ম। সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন আরো এমন সব আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।