ভুট্টা চাষে সারের পরিমান জেনে নিন

ভুট্টা চাষে সারের পরিমান

ভুট্টা চাষে সারের পরিমান সম্পর্কে জানতে অনেকেরই বেশ আগ্রহ রয়েছে। কারণ সঠিক নিয়মে সার প্রয়োগ ভুট্টা চাষ সহ যেকোনো চাষ ক্ষেত্রেই বেশ জরুরী। তাই আমাদের সকলেরই জেনে রাখা জরুরী ভুট্টা চাষে সারের পরিমাণ সঠিকভাবে। কারণ সঠিক পরিমাণে ভুট্টা চাষের ক্ষেত্রে যদি সার প্রয়োগ না করা হয়। তাহলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। যেমন ভুট্টায় ফলন কম হওয়া। কারণ সঠিক পরিমাণের তুলনায় যদি কম সার প্রয়োগ করা হয়। তাহলে গাছ পুষ্টি পাবে কম এবং ভুট্টা ও উৎপাদন হবে কম। তাই অবশ্যই এ বিষয়টা বেশ জরুরী। আবার সঠিক পরিমাণের চেয়ে বেশি পরিমাণে যদি সার প্রয়োগ করা হয় জমিতে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে গাছ মারাও যেতে পারে। তাই আমাদের সকলেরই জেনে রাখা জরুরী ভুট্টা চাষে সারের পরিমান

সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অবশ্যই আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সার প্রয়োগ আগে মাটি পরীক্ষা করা উচিত কারণ এক এক মাটিতে একেক রকম পুষ্টি থাকে। তাই আপনার মাটিতে কোন ধরনের পুষ্টির অভাব রয়েছে বা কোন ধরনের পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। তা মাটি পরীক্ষা করার মাধ্যমে নির্ণয় করে তারপর সার প্রয়োগ করা উচিত। এক্ষেত্রে আপনি ভুট্টা চাষে সারের পরিমান আরো ভালোভাবে জানতে পারবেন।
বাংলাদেশে ভুট্টারও বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। একেক জাতের ক্ষেত্রে একেকরকম পুষ্টির প্রয়োজন হয়। তাই কোন জাতের ভুট্টা আপনি চাষ করছেন এবং সেটিও জেনে রাখা জরুরী। তাই বীজ বপণের আগে অবশ্যই বীজের লেভেল চেক করুন।
আবহাওয়া ও সারের পরিমাণকে প্রবাহিত করতে পারে। তাই আপনি সার প্রয়োগের আগে কোন কৃষি বিশেষজ্ঞ বা স্থানীয় উপজেলা কৃষি মন্ত্রণালয় থেকেও জানতে পারেন।

বাংলাদেশের প্রচলিত ভুট্টা চাষে সারের পরিমাণ

ইউরিয়া প্রতি বিঘায় ১৬৫ থেকে ১৮০ কেজি
টিএসপি প্রতি বিঘায় ৮৭ থেকে ১০০ কেজি
এমওপি প্রতি বিঘায় ৬২ থেকে ৭৮ কেজি
জিপসাম প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৭৮ কেজি
জিংক সালফেট ৪ থেকে ৫ কেজি
বরিক এসিড প্রতি বিঘায় ১.৫ থেকে ২.৫ কেজি

সার প্রয়োগের পদ্ধতি :

ইউরিয়া: মোট ইউরিয়া সারের অর্ধেক পরিমাণ জমি তৈরির শেষে চাষের সময় প্রয়োগ করুন। আর বাকি অর্ধেককে দুই ভাগে ভাগ করে বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩০ দিন পর একবার এবং ৪০ থেকে ৫০ দিন পর আবার উপ প্রয়োগ করুন।
টিএসপি: জমি তৈরি শেষে সারা মাটিতে ভালো করে ছিটিয়ে মিশিয়ে নিন।
এমওপি: এমওপি কে ও জমি তৈরির শেষে সারা মাটিতে ভালো করে ছিটিয়ে মিশিয়ে নিন চাষের সময়
জিপসাম: জমি তৈরি শেষে সারা মাটিতে ভালো করে ছিটিয়ে মিশিয়ে নিন। লক্ষ্য রাখতে হবে কোন জায়গায় যেন কমবেশি না পরে।
জিংক সালফেট : বীজ বপনের সময় সারা জমিতে ছিটিয়ে দিন। এবং বীজ বপন করুন।
বরিক এসিড: বীজ বপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পর পানির সাথে মিশিয়ে সারা জমিতে সেচ দিন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জমি প্রস্তুতি আগে অবশ্যই জমির মাটির পরীক্ষা করে নিন। এক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাবেন এবং জমির পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন।
এবং সার অবশ্যই সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োগ করুন। সার প্রয়োগের পর অবশ্যই পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা রাখুন এক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাবেন। এবং আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জৈব সার ব্যবহার করলে রসায়নের সারের পরিমাণ কমাতে হবে।

প্রিয় পাঠক আমরা আশা করি আপনারা আমাদের আজকের আর্টিকেলে জানতে পেরেছেন ভুট্টা চাষে সারের পরিমান সম্পর্কে এবং একই সাথে সার প্রয়োগের নিয়ম সম্পর্কে। উপরে উল্লেখিত তথ্য আমরা গুগল সহ বিভিন্ন জায়গায় থেকে কালেক্ট করেছি আপনাদের সুবিধার্থে। আরো ভালো তথ্য পেতে আপনারা অবশ্যই সার প্রয়োগ এবং চাষের আগে আপনাদের স্থানীয় কৃষিবিদ এবং কৃষি বিশেষজ্ঞ অথবা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তথ্য জেনে নিতে পারেন এক্ষেত্রে আপনাদের জন্য আরও ভালো হবে।