ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত বাংলা অর্থসহ দেখে নিন।

ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম

ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত বাংলা অর্থসহ। জানতে অনেকেই google এ সার্চ করে থাকেন। কেননা ঈদ বছরে মাত্র দুইদিন। যার ফলে আমরা অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়ম এবং নিয়ত ভুলে যাই। তাই আমাদের আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত বাংলা অর্থসহ।


ত্যাগ ও উৎসর্গের উৎসব হলো ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ। ঈদুল ফিতর চাঁদ দেখে হলেও। প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়ে থাকে। সারা বাংলাদেশে ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে ১০ জিলহজ। আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দিন হিসেবে এই দুটি দিন নির্ধারণ করেছেন। এই দিনে ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব।


কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন, “অতএব তোমার রবের উদ্দেশেই নামাজ পড়ো এবং নহর করো।’ (সুরা আল কাউছার, আয়াত: ২) 


ঈদুল ফিতরের নামাজ সাধারণ নামাজের মতো নয়। ঈদের নামাজ ওয়াজিব। ছাদ ছাড়া খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোলা জায়গায় ঈদের নামাজ পড়ার জন্য। তবে খোলা জায়গা না থাকলে মসজিদেও ঈদের নামাজ পড়া যাবে।


ঈদুল আযহার নামাজের নিয়ম ও নিয়ত বাংলা অর্থসহ :


ঈদুল আযহার নিয়ত:


আরবি:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّي لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْنِ صَلَاةَ الْعِيْدِ الْأَضْحَى مَعَ سِتِّ التَّكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ


বাংলা:

“নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাইন সালাতিল ‘ঈদিল আযহা মা’আ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’আলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝ্জিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।”


অর্থ:

“আমি আল্লাহর জন্য ঈদুল আযহার দুই রাক’আত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সাথে এই ইমামের পিছনে কেবলামুখী হয়ে আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।”


ঈদুল আযহা নামাজের নিয়ম
:

•সুবহে সাদিকের পর গোসল করা এবং সুন্দর পোশাক পরিধান করা

•ঈদগাহে যাওয়ার পথে তাকবির বলা

•ঈদগাহে পৌঁছে নিয়ত করা

•ইমামের সাথে তাকবিরে তাহরিমা বলা

•ছানা পড়া

•ইমামের সাথে অতিরিক্ত ৭ তাকবির বলা

•সূরাহ ফাতেহা ও অন্য সূরাহ তিলাওয়াত করা

•রুকু ও সিজদা করা

•দ্বিতীয় রাক’আতে ইমামের সাথে অতিরিক্ত ৩ তাকবির বলা

•খুতবা শোনা

•ঈদের দোয়া পড়া

•একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা


ঈদুল আযহার নামাজের ফজিলত:

ঈদুল আযহার নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে।

কিছু ফজিলত:

গুনাহ মাফের মাধ্যম: ঈদের নামাজের মাধ্যমে আগের ও পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ হতে পারে।

আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম: ঈদের দিন আল্লাহর রহমত বিশেষভাবে বর্ষিত হয়। ঈদের নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।

জান্নাতের সুসংবাদ: ঈদের নামাজের মাধ্যমে জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করা যায়।

পূর্ববর্তী ও পরের ঈদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনা মাফ: ঈদের নামাজ আদায়কারীর দুই ঈদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনা মাফ হয়ে যায়।

আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ: ঈদের নামাজ আদায়কারী আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে।

শয়তানের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ: ঈদের নামাজের মাধ্যমে শয়তানের প্রতি বিদ্বেষ প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: ঈদের নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি: ঈদের নামাজের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়।


হাদিসে ঈদের নামাজের ফজিলত:


• রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈদের দু’রাক’আত সালাত আদায় করে, তার জন্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ঈদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনা মাফ হয়ে যায়।” (তিরমিযী)


• অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈদের দিন সুন্দরভাবে গোসল করে, ঈদের পোশাক পরিধান করে, ঈদের নামাজ পড়ে এবং খুতবা শোনে, তার জন্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ঈদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনা মাফ হয়ে যায়।” (মুসলিম)



ঈদুল আযহা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


•ইসলামের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ হচ্ছে ঈদ উল আযহা

•হিজরি সনের জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পালিত হয়

•হজের সমাপ্তি উপলক্ষে পালিত হয়

•কুরবানি করা ঈদের প্রধান বিধান

•একটি সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব


•ঈদের নামাজ জামা’আতে পড়া সুন্নত

•ঈদের নামাজের জন্য কোন আযান ও ইকামত নেই

•ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজের আগে কিছু খাওয়া সুন্নত

•ঈদের দিন সকালে ঈদের নামাজের পর গরিবদের মাঝে গোশত বিতরণ করা ওয়াজিব