নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম দেখে নিন

নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন

নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে অনেক মানুষ গুগলে সার্চ করে থাকেন। নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন সম্পর্কে অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে। আমাদের প্রায় ছুটির দরকার পড়ে। তাই নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন সঠিকভাবে লেখার নিয়ম আমাদের সকলের জেনে রাখা জরুরী।

 

আবেদন বা দরখাস্ত ছাত্র জীবন থেকে চাকরি জীবন সব ক্ষেত্রেই এটার বেশ গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের সকলেরই জেনে রাখা জরুরি কিভাবে সঠিক নিয়মে শুদ্ধভাবে আবেদন বা দরখাস্ত লিখতে হয়। স্কুল জীবনের স্কুল অনুপস্থিতির আবেদন। স্কুল ছুটির আবেদন। থেকে শুরু করে বেতন মওকুফের আবেদন। একই সাথে এটার গুরুত্ব রয়েছে চাকরি জীবনেও। বেতন বাড়ানোর জন্য আবেদন। নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন। আরো কত কি এর গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। সুন্দর দরখাস্ত লিখতে পারলে কর্তৃপক্ষ আপনাকে বেশ গুরুত্ব দিবে। দরখাস্ত বা আবেদন লেখার ক্ষেত্রে আমরা অনেকে কিছু ভুল করে থাকি। যা আমাদের করা একদম উচিত নয়। দরখাস্ততে করা যাবে না এরকম চারটি ভুল নিচে দেওয়া হলো

 

প্রথমত: দরখাস্ত তে একদম সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করা উচিত। কোনভাবেই দরখাস্ত বা আবেদনে ভুল তথ্য সংযুক্ত করা উচিত নয় 

 

দ্বিতীয়ত: স্পষ্ট এবং সাবলীল ভাষা দরখাস্ততে ব্যবহার করতে হবে। এবং একই সাথে সবকিছু সহজ এবং সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখতে হবে। যাতে করে এটিকে পড়তে কোনরকম অসুবিধা না হয়। তাই ভাষার দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত। 

 

তৃতীয়ত: আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় আপনার আবেদন বাতিল করা হতে পারে। 

 

চতুর্থত: ভুলক্রুটি এড়াতে আবেদন করার আগে অবশ্যই আপনার নিজে কয়েকবার পুরো দরখাস্ত পড়ে নেওয়া উচিত। যাতে কোন কিছু ভুল হলে আপনার কাছেই ধরা পড়ে।

 

 এত কিছুর মধ্য দিয়ে কিভাবে গুছিয়ে শুদ্ধভাবে আবেদন লিখবেন এটা নিয়ে অনেকেই ভয়ে থাকেন। তবে প্রিয় পাঠক আপনাদের আর ভয়ের কোনো কারণ নেই। আশা করি আমাদের আজকের আর্টিকেল পড়ার পর। আপনার আর আবেদন বা দরখাস্ত নিয়ে। কোন প্রশ্ন থাকবে না। দরখাস্ত লেখার নিয়ম। থেকে শুরু করে একটা দরখাস্ত তে যা যা দরকার তার সবই। আপনারা জানতে পারবেন আমাদের আজকের আর্টিকেলে। 

 

আরো পড়ুন: জ্বর থাকার কারনে স্কুলে অনুপস্থিতির জন্য দরখাস্ত 

নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম

 

১) প্রথমে সবার উপরে আবেদনের তারিখ উল্লেখ করবেন। যেমন ” (তারিখ: ২০,০৯,২০২*)

 

২) তারপর বরাবর লিখে তাকে উল্লেখ করবেন যার উদ্দেশ্যে আপনি এ আবেদন বা দরখাস্ত লিখছেন। উদাহরণস্বরূপ মাননীয় প্রধান শিক্ষক বা মাননীয় চেয়ারম্যান (বামপাশে)

 

৩) যার উদ্দেশ্যে আবেদন করছেন তাকে উল্লেখ পর তার ঠিক নিচেই স্কুল কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করবেন। 

 

৪) অতঃপর সে স্কুল বা সে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা স্পষ্ট ভাবে লিখবেন। 

 

৫) তারপর আপনার আবেদনের বিষয়টি লিখবেন।

উদাহরণস্বরূপ: নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন

 

৬) তারপর দরখাস্তের কারণ লেখার আগে। 

জনাব/জনাবা বা মহাশয়/মহাশয়া, বলে শুরু করবেন।

 

৭) তারপর শুরুতে আপনার পরিচয় ভালোভাবে সাবলীল ভাষায় দিবেন অতঃপর এই আবেদন বা দরখাস্তের কারণ স্পষ্ট এবং সহজভাবে উল্লেখ করবেন। সম্ভব হলে এখানে প্রমাণসহ তুলে ধরবেন।

 

৮) এবং শেষ অংশে আপনার কারণ বিবেচনা করে। আপনার এই দরখাস্ত বা আবেদন। গ্রহণ করবে বলে আপনি আশাবাদী বলে উল্লেখ করবেন। এবং শেষে ধন্যবাদ দিবেন

 

৯) তারপর প্রথমে আপনার নাম তার নিচে আপনার স্বাক্ষর 

 

আবেদনের নমুনা 

 

তারিখ: ২০,১০,২০২*

 

বরাবর

(চেয়ারম্যান, প্রদান শিক্ষক )

(প্রতিষ্ঠানের নাম লিখুন) 

(প্রতিষ্ঠানের থানা এবং জেলা)

 

বিষয়: দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন 

 

জনাব, 

সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সবিনয় নিবেদন এই যে, (আপনার ছুটির কারণ ভালোভাবে গুছিয়ে লিখুন শুদ্ধ এবং স্পষ্ট ভাবে)। তাই আগামী ২০,১০,২০** হতে ২২,১০,২০** পর্যন্ত ছুটি প্রার্থনা করছি। আপনি এই দুইদিন ছুটি মঞ্জুর করলেন (ছুটির কারণ) আমি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।

 

অতএব, আপনার কাছে আকুল আবেদন আমার উপরে বলা কারণ বিবেচনা করে আমার উল্লেখিত দুইদিন ছুটি মঞ্জুর করুন। 

 

বিনীত নিবেদক

(আপনার নাম লিখুন) 

(আপনার পদের নাম) 

(প্রতিষ্ঠানের নাম) 

(প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা) 

 

আরো পড়ুন: এমপি বরাবর দরখাস্ত লেখার নিয়ম

 

প্রিয় পাঠক আশা করি আমাদের আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি। নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। আরো এমন সব আর্টিকেল পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।