রমজান মাসের গুরুত্তপূর্ণ ১০ টি আমল : রমজান মাসের আমল

রমজান মাসের গুরুত্তপূর্ণ ১০ টি আমল

রমজান মাসের গুরুত্তপূর্ণ ১০ টি আমল । রমজান রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস। এই মাস আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নিয়ামত। অধিক পরিমাণে আমলের মাধ্যমে বিপুল সাওয়াব অর্জন ও নেকি লাভের মৌসুম। এ মাসেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

রমজান মাসের গুরুত্ব:-

কুরআন অবতীর্ণের মাস: রমজান মাসে পবিত্র কুরআন মুহাম্মদ (সাঃ) এর নিকট অবতীর্ণ হয়েছিল।

ক্ষমা ও পুরস্কারের মাস: রমজান মাসে আল্লাহ তায়ালা অধিক রহমত ও মাগফিরাত বর্ষণ করেন।

জান্নাতের দ্বার উন্মুক্ত: রমজান মাসে জান্নাতের দ্বার উন্মুক্ত থাকে এবং জাহান্নামের দ্বার বন্ধ থাকে।

শয়তানের শেকলবদ্ধ থাকা: রমজান মাসে শয়তান শেকলবদ্ধ থাকে, ফলে মানুষ অন্যায় ও পাপাচার থেকে সহজেই বিরত থাকতে পারে।

 

রমজান মাসের গুরুত্তপূর্ণ ১০ টি আমল

রমজানের আমলসমূহ:-

১. রোজা রাখা: রমজান মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হল রোজা রাখা। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্দিষ্ট বিধি-বিধান মেনে রোজা রাখা মুসলমানদের উপর ফরজ।

২. তাহাজ্জুদ: রাতের শেষ ভাগে নফল নামাজ ‘তাহাজ্জুদ’ নামে পরিচিত। রমজান মাসে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব অনেক বেশি।

৩. কুরআন মজীদ তেলাওয়াত: এ মাস কুরআন অবতরণের মাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল আ.-এর সাথে রমযানের প্রত্যেক রাতে কুরআন মজীদ একে অপরকে পড়ে শুনাতেন। হাদীস শরীফে এসেছে-‘হযরত জিবরীল আ. রমযানের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাত করতেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কুরআন মজীদ শোনাতেন

৪. তারাবীহ: রমজান রাতের বিশেষ আমল হল কিয়ামে রমযান তথা বিশ রাকাত তারাবীহ। এ মাসের অফুরন্ত রহমত ও মাগফিরাত লাভ করার জন্য এবং প্রতিশ্রুত ছওয়াব ও পুরস্কার পাওয়ার জন্য তারাবী নামাযের প্রভাব অপরিসীম।

৫. দান করা: দান-সদকা সর্বাবস্থাতেই উৎকৃষ্ট আমল, কিন্তু রমযানে তার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। হাদীস শরীফে এসেছে- ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। রমযান মাসে তাঁর দানের হস্ত আরো প্রসারিত হত।

৬. ওমরা করা: রমজান মাসের বিশেষ আমল হলো সামর্থ্য থাকলে ওমরা করা।

৭. ইতেকাফ: রমজান মাসের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করা ‘ইতেকাফ’ নামে পরিচিত।

৮. দোয়া: রমজান মাসে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই এই মাসে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

৯. তাওবা: রমজান মাসে পূর্ববর্তী গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত।

১০. নফল ইবাদত: রমজান মাসে নফল ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি।

এছাড়াও রমজান মাসে মিথ্যা বলা, গীবত করা, পরনিন্দা করা, রাগ করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত।